খালেদা জিয়া

সাবেক প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপারসন

বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গণতন্ত্রের বিকাশ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে অনন্য অবদান রাখেন। দুই দশকেরও বেশি সময় তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে দল পরিচালনা করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া

জন্ম ১৫ আগস্ট ১৯৪৫, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় মহিলা সরকারপ্রধান হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন, যেটি তার স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠা করেন।

জলপাইগুড়িতে জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়ার প্রকৃত নাম ছিল খালেদা খানম, ডাক নাম পুতুল। তার পিতা ইস্কান্দর মজুমদার একজন ব্যবসায়ী ছিলেন এবং মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। ১৯৬০ সালে তিনি জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই পুত্র—তারেক রহমান ও আরাফাত রহমান কোকো—রাজনীতি ও ক্রীড়াঙ্গনে যুক্ত ছিলেন, যদিও কোকো ২০১৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

দিনাজপুর মিশন স্কুলে তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয়, পরে দিনাজপুর গার্লস স্কুলে পড়াশোনা করেন। রাজনৈতিক জীবনে প্রবেশের আগে তিনি একজন সাধারণ গৃহবধূ ছিলেন, যিনি সংসার ও সন্তানদের লালন-পালনে মনোযোগী ছিলেন।

১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ১৯৮২ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৩ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে সাত দলীয় ঐক্যজোট গঠন করে নেতৃত্ব দেন। দীর্ঘ আট বছর সংগ্রামের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করে এবং তিনি প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন।

তার নেতৃত্বে দেশে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয় এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রবর্তিত হয়। ২০০১ সালে চারদলীয় জোটের নেতৃত্বে তিনি পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার গ্রেফতার হন। ১৯৮৩, ১৯৮৪ ও ১৯৮৭ সালে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় তাকে গ্রেফতার করা হয়। ২০০৭ সালে দুর্নীতির অভিযোগে পুত্রসহ গ্রেফতার হন এবং এক বছর সাত দিন কারাবন্দী ছিলেন। ২০০৮ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে তিনি মুক্তি পান এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

২০১০ সালে সেনানিবাসের বাসা ত্যাগ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তিনি অভিযোগ করেন তাকে বলপ্রয়োগে বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে, যদিও সরকার পক্ষ দাবি করে তিনি স্বেচ্ছায় বাসা ছেড়েছেন।

২০১২ সালে তিনি সৌদি আরব, চীন ও ভারত সফর করেন। সৌদি আরবে তিনি রাজপরিবারের আমন্ত্রণে ওমরাহ পালন করেন এবং শ্রমবাজার নিয়ে আলোচনা করেন। চীনে শি জিনপিংসহ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। ভারতে তিনি মনমোহন সিং, প্রণব মুখার্জি ও সুষমা স্বরাজসহ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন, যেখানে সীমান্ত নিরাপত্তা, তিস্তা চুক্তি ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়।

বেগম খালেদা জিয়া