সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া

ওয়াদুদ ভূইয়া শহিদ জিয়ার অনুসারী এবং ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিক জীবনের সূচনা ঘটান। ১৯৮০-১৯৯০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল রামগড় রাজনীতিক জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৮৭-১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত বাঙলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্গ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহবায়ক এবং সভাপতি ছিলেন। চট্টগাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতৃত্বকালীন বৃহত্তর চট্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কর্মকাণ্ডে নতুন প্রাণের সঞ্চার ঘটে। ১৯৯০-১৯৯২ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাঙলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, রামগড় রাজনীতিক জেলা শাখার সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৩-২০০৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, খাগড়াছড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দে জনাব ওয়াদুদ ভূইয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা শাখার সভাপতি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর নির্বাহী কমিটির সদ্স্য নির্বাচিত হন।

একজন আদর্শ সংসদ সদস্যের সকল গুণাবলী ওয়াদুদ ভূইয়াতে বিদ্যমাণ। বাহ্যিক অভিব্যক্তি থেকে হৃদ্যিক পরিস্ফুটন প্রতিটি মুগ্ধকর অঙ্গনে তিনি জন্মগত এক নেতা। হৃদয়ে তার পার্বত্য অঞ্চল, নির্বাচনী এলাক ভোটার। এ তিন প্রত্যয়কে ঘিরে তার জীবন। তিনি মনে করেন, এক একটা ভোট এক একটা আত্মদান, ভালবাসার নিপূণ প্রকাশ। যারা তাকে ভোট দিয়েছেন তাদের কল্যাণকে তিনি নিজের জীবনের চেয়েও অধিক গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন। তাই যে কোন বিপদে ছুটে যান। যারা তাদের ভোট দেননি তারাও তার কাছে প্রিয়। পার্ববত্য অঞ্চল খাগাড়াছড়ি এলাকায় সংসদ সদস্য ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে যে কাজ করেছেন তা এটাই প্রমাণ করে। সর্বোপরি; একজন প্রকৃত সংসদ সদস্য কখনও প্রতিশোধ পরায়ন হন না। এ গুনটি বিস্ময়কর মহানুভবতায় ওয়াদুদ ভূইয়াতে রয়েছে। তাই তার কাছে যারা তাকে ভোট দেননি, তার বিরোধিতা করেছেন তাদেরও তিনি সংসদ সদস্য। তাদের প্রতিও তার মমতা, শ্রদ্ধা আর সহমর্মিতা অবারিত। তবে যে বা যারা সংকীর্ণ স্বার্থ চিন্তা লোভাতুর হয় জনগণের সম্পদ আত্মসাৎ করেছে, মানুষকে হয়রানি করেছে, উন্নয়নের নামে প্রতারণা করেছে, মানবতা বিরোধি কাজ করেছে তাদের তিনি কঠোর হস্তে দমনে দৃঢ় অঙ্গিকারাবদ্ধ। এ সাহস এবং সামর্থ্য দুটোই তার আছে। তাই তিনি একজন আদর্শ সংসদ সদস্য।

১৯৮৯ খ্রিস্টাব্দে তিনি খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে খাগড়াছড়ি পাবর্ত্য জেলা (সংসদীয় আসন নং-২৯৮) এ অংশগ্রহণ করে বিপূল ভোটে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের ৮ম নির্বাচনে উক্ত আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে সরকার তাকে পার্বত্য চট্টগ্রোম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। এখানে উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৯১, ১৯৯৬ (পঞ্চম জাতীয় সংসদ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনেো বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। তবে অল্প ভোটের ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থান অর্জণ করেন। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে তিনি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সদস্য নিযুক্ত হয়েছিলেন। অধিকন্তু তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

২০০৭ খ্রিস্টাব্দে সামরিক বাহিনী শাসিত জরুরি সরকার রাজনীতিক কারণে মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে হয়রানি করার জন্য খালেদা-হাসিনাসহ অন্যান্য রাজনীতিবিদগণের সাথে তাকেো বন্দি করেন। তবে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কোনটিই প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়। তাই সরকার তাকে সসম্মানে মুক্তি দিতে বাধ্য হন। জনাব ভূইয়া মামলা এবং হয়রানির কারণে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

সংসদ সদস্য বলুন, আর আঞ্চলিক রাজনীতির কৌশল কিংবা গুণগত দিক বলুন; যেটি বিবেচনা করা হোক না কেন; খাগড়াছড়ি ও পার্বত্য অঞ্চলের রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূইয়া অত্যন্ত দক্ষ এবং মহীয়ান গুণের অধিকারী একজন দূরদর্শী নেতা। পাহাড়ের জটিল রাজনীতির সমীকরণ বুঝেন তার মত দক্ষ এমন কোন নেতা পার্বত্য অঞ্চলে আর নেই। পাহাড়ি-বাঙ্গালি উভয় জনগোষ্ঠীর গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনাতেও ওয়াদুদ ভূইয়া খাগড়াছড়ি তথা পার্বত্য অঞ্চলের সবচেয়ে উত্তম নেতা হিসেবে প্রতিভাত। কাজেই ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খাগড়াছড়ি আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়া আবার দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন। এ ব্যাপারে সচেতন মহলের কোন সন্দে নেই। সে হিসেবে খাগড়াছড়ি বিএনপিতে চলছে আন্দোলনের পাশাপশি জোড় নির্বাচনের প্রস্তুতি। তিনি আগের মত এখনও সর্বক্ষণ দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে আছেন।

ওয়াদুদ ভূইয়া ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ৯৪ হাজার ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এরপর ওয়াদুদ ভূইঁয়াকে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়। তার আমলে খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়। তিনি পার্বত্য এলার সর্বত্র সমতারভিত্তিতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। যা সর্বমহলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়। ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়াদুদ ভূইয়া কারাগারে আটক থাকায় সমীরণ দেওয়ানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। নির্বাচনে সমীরণ দেওয়ান আওয়ামীলীগ প্রার্থীর চেয়ে প্রায় অর্ধেক ৬২ হাজার ৯’শ ৭৭ভোট পেয়ে শোচনীয়ভবে পরাজিত হন। বিষয়টি বিএনপি’র নীতি নির্ধারণী মহলকে হতাশ করে তুলে। তারা অনুধাবন করতে সক্ষম হন যে, খাগড়াছড়ির রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূইয়ার বিকল্প নেই।

ওয়াদুদ ভূইয়া কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা আবার সু-সংগঠিত হতে শুরু করে। ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ নভেম্বর বিএনপির চেয়ারপাসর্নের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব:) রুহুল আলম চৌধুরীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ওয়াদুদ ভূইঁয়াকে সভাপতি ও আবু ইউসুফ চৌধুরীকে সম্পাদক করে খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির কমিটি গঠিত হয়।

খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রবীণ চন্দ্র চাকমা নিশ্চিত করে বলেন, ওয়াদুদ ভূইয়াকে সভাপতি করে বিএনপিরি কমিটি যাতে অনুমোদন না হয় তার জন্যে দেশি-বিদেশি বহু ষড়যন্ত্র হয়েছে। তারপরও জনপ্রিয়তা, রাজনীতিক বাস্তবতা, সর্বস্তরের নেত-কর্মীদের দাবি প্রভৃতি বিবেচনায় বিনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা ওয়াদুদ ভূইঁয়ার নেতৃত্বাধীন কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে পাহাড়ের বিএনপির রাজনীতিতে ওয়াদুদ ভূইঁয়ার কোন বিকল্প নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদনে এখন জেলা বিএনপির সভাপতি ওয়াদুদ ভূইয়ার একক নেতৃত্বে সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়াদুদ ভূইয়া খাগড়াছড়ি আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাচ্ছেন এটা যেমন নিশ্চিত তেমনি তিনি বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হবেন। কারণ এ অঞ্চলের পাহাড়িরাও মনে করেন, অতীতে ওয়াদুদ ভূইয়ার নেতৃত্বেই তারা সব চেয়ে বেশি নিরাপদে ছিলেন এবং আগামীতেও থাকবেন।কারণ তার জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড, মানবহিতৈষী মনোভাব, দলের জন্য ত্যাগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নে নিবেদিতপ্রাণ ভূমিকা ওয়াদুদ ভূইয়াকে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে অবিসংবাদিত হিসেবে গড়ে তুলেছেন। এ বিষয়ে তার বিরোধিদেরও কোন সন্দেহ নেই। সর্বোপরি পার্বত্য অঞ্চলের মত তেরটি ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লোক অধ্যুষিত অঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় ওয়াদুদ ভূইয়ার ভূমিকা এবং ত্যাগী মনোভাব পাহাড়ি-বাঙ্গালি; উপজাতি-অউপজাতি সবার মনে শ্রদ্ধার শিহরণ সৃষ্টি করে। জাতীয় নেতৃবৃন্দও এ বিষয়ে ওয়াকবিহাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *