পরিবার

জনাব ওয়াদুদ ভূইয়ার পিতার নাম হাজি সালেহে আহাম্মেদ ভূইয়া। তিনি পেশায় ছিলেন ব্যবসায়ী এবং নেশায় ছিলেন সমাজ সেবক। মায়ের নাম হাজি বিয়া সালেহ। তিনি পোশায় গৃহিনী হলেও শিক্ষা-দীক্ষা ও পরিবেশগত সচেতনতায় ছিলেন একজন আদর্শ নারী। সন্তান-সন্ততিদের পরবর্তী জীবনের জন্য আদর্শ মানুষ হিসেব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তার বিচক্ষণতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তার পিতা ছিলেন অত্যন্ত স্নেহপ্রবণ এবং দিল দরিয়া। প্রতিবেশি ও দুঃস্থদের সহায়তায় ভূইয়া পরিবার ছিলেন আন্তরিক। অনেক ছেলেমেয়ে এ পরিবারের সহায়তায় লেখাপড়া করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ওয়াদুদ ভুইয়ার পিতা-মাতা চার সন্তান ও দুই সন্ততির গর্বিত পিতা-মাতা।
সংসার জীবনে ওয়াদুদ ভূইয়া দুই কন্যার জনক। তার প্রথম কন্যা বাঁশরী ওয়াদুদ ২০০১ খ্রিস্টাব্দের ৫ জুন জন্মগ্রহণ করে। দ্বিতীয় কন্যা অপ্সরী ওয়াদুদ ২০০২ খ্রিস্টাব্দের ৭ সেপ্টেম্বর জন্গ্রগ্রহণ করে।

ওয়াদুদ ভূইয়ার সর্বজ্যেষ্ঠ ভ্রাতার নাম হাজি সাহাব উদ্দিন ভূইয়া। তার স্ত্রীর নাম হাজি রাহেলা বেগম। শাহাবু্দ্দিন ভূঁইয়া ছিলেন ব্যবসায়ী এবং সমাজ সেবক। রামগড়ে বসবাস করতেন। ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ১৯ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরন করেন। ওয়াদুদ ভূইয়া তার জীবনে পথা চলার পাথেয় সঞ্চয়ে বড় ভাই সাহাবুদ্দিনকে সকল অর্জণের উৎস বলে মনে করেন। তার ছয় ছেলে ও ২ মেয়ে। সর্বজেষ্ঠ্য জন কন্যা। তার প্রথম সন্তান দাউদুল ইসলাম ভূইয়া বিএ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিনি চট্টগ্রাম শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।

দ্বিতীয় ছেলে শহিদুল ইসলাম ভূইয়া ফরহাদ এমএসএস। তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী ও একটি আঞ্চলিক পত্রিকার সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রাম নগরের অভিজাত এলাকা খুলশীতে বসবাস করেন। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে জড়িত। তিনি রামগড় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি এখন রামগড় উপজেলা চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন।

তৃতীয় সন্তান অহিদুল ইসলাম ভূইয়া মুরাদ পরিবহন ব্যবসায় জড়িত। তিনি খাগড়াছড়ি শহরে বসবাস করেন। চতুর্থ সন্তান সাইফুল ইসলাম ভূইয়া রিয়াদ বিএস এস। তিনি এখন ইন্টেরিয়র ডিজাইনের উপর ডিপ্লোমা করছেন্য। তিনি চট্টগ্রপাম শহরে বসবাস করেন। পঞ্চম সন্তান মাজেদুল ইসলাম ভূইয়া সাজ্জাদ বি এ। তিনি ব্যবসায় জড়িত এবং ফেনীতে বসবাস করেন। ষষ্ঠ সন্তান শরীফুল ইসলাম ভূইয়া আসাদ বি বি এ। তিনি ছাত্র নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং খাগড়াছড়িতে বসবাস করেন। হাজি সাহাব উদ্দিন ভূইয়ার কন্যাদ্বয়ের নাম যথাক্রমে নুরুন নাহার রীনা ও কামরুন নাহার কামরুন। রীনা স্বামীর স্বাথে ফেনীতে এবং কামরুন স্বামীর সাথে চট্টগ্রামে বসবাস করেন। রীনা গৃহিনী এবং কামরুন একজন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মকর্ম সংস্থানে নিয়োজিত।

ওয়াদুদ ভূইয়ার দ্বিতীয় ভ্রাতা হাজি আলতাফ হোসেন ভূইয়া বিএ সরকারি চাকুরিজীবী ছিলেন। তার স্ত্রীর নাম তৈয়বা বেগম। তিনিও ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। জনাব আলতাফ ভূইয়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। আলতাফ হোসেন ভূইয়া সাত কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক। তার প্রথম সন্তান কন্যা, নাম রোকসানা আক্তার শিউলি। তিনি বিএ পাশ এবং তার স্বামী ডাক্তার মো: জয়নাল আবেদিন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। দ্বিতীয় কন্যা শামীমা আক্তার শম্পা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে এমএসএস ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী এ এইচ এম আরিফুল আমিন ভূইয়া (রিজভি) সমাজ বিজ্ঞানে মাস্টার্স। তিনি বর্তমানে ব্যবসায় রত। তৃতীয় কন্যা নাজমা আক্তার রুম্পা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। তিনি বর্তমানে ইউআইটিএস এর প্রভাষক। তার স্বামীর নাম শহিদুল ইসলাম ফরহাদ এমএসএস। তিনি একজন ব্যবসায়ী। চতুর্থ কন্যা ফারজানা আক্তার টুম্পা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। তার স্বামী এস এম আবুল মঞ্জুর রনি আল আরফাহ ইসলামি ব্যাংকের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। পঞ্চম কন্যা ফারহানা আক্তার লোপা চট্টগ্রামের বিখ্যাত প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে ইংরেজি সাহিত্যে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন । তিনি বর্তমানে গভর্নমেন্ট সেকেন্ডারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত। তার স্বামী দিদারুল ইসলাম একজন বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। তিনি বিএস গ্রুপে আইডি ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত আছেন। ষষ্ঠ কন্যা ফাহমিদা আক্তার ইলা প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি থেকে এলএলএম করেছেন। বর্তমানে তিনি সাউদার্ন উইনিভার্সিটি, চট্টগ্রামে এডমিশন কো-অর্ডিনেটর হিসেবে কর্মরত আছেন। সপ্তম কন্যা তারজিন আক্তার অন্তি ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রামে বিবিএ শ্রেণির ছাত্রী। একমাত্র পুত্র সন্তান জুনায়েদ হোসাইন আকিব নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির বিবিএ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।

ততৃীয় ভ্রাতা বেলায়েত হোসেন ভুইয়া বি এ সমাজ সেবক, ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদ হিসেবে খ্যাত ছিলেন। তিনি ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি একাধিকবার রামগড় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও রামগড় পৌরসভার মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার চার ছেলে ও চার মেয়ে। ননী হায়দার মৃত্যবরন করেছেন। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে। তার প্রত্যেকটি সন্তান-সন্ততি স্বমহিমায় উজ্জ্বল এবং মেধা ও অধ্যবসায়ের গুণে সবার কাছে প্রসংশিত খ্যাতির অধিকারী। তিনি ছেলেমেয়েদের ওভাবে গড়ে তুলেছেন।

বেলায়েত হোসেন ভুইয়ার জ্যেষ্ঠ পুত্র পুত্র হাসনাত মোর্শেদ ভুঁইয়া। তিনি নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি সহকারী কমশিনার (ভুমি) হিসেবে নত্রেকোণা জেলা প্রশাসকরে কার্যালয়ে নিয়োজিত আছেন। দ্বিতীয় পুত্র সাফায়েত মোর্শেদ ভুঁইয়া। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যলায় থেকে মানব-সম্পদ ব্যাবস্থাপনায় এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি আর, এ, কে পেইন্টস (প্রাঃ) লমিটেড নামের একটি বহুজাতিক কোম্পানির মানব-সম্পদ বভিাগে কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিতি আছেন। বেলায়েত হোসেন ভুইয়ার কনিষ্ঠ পুত্র ইশতিয়াক মোর্শেদ ভুঁইয়া। অন্যান্য ভাইবোনদের মত তিনিও মেধাবী। বর্তমানে তিনি বার অ্যাট ল ডিগ্রি র্অজনরে উদ্দশ্যে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রামের অধীনে লন্ডন কলজে অব লিগ্যাল স্টাডজি (সাউথ) এ এলএলবি দ্বিতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। একই সাথে তিনি ঢাকা বশ্বিবদ্যিালয়েও এলএলবি দ্বিতীয় র্বষে অধ্যয়নরত।

ননী হায়দারের স্বামী সৈয়দ কুতুবদ্দিন হায়দার। অভিজাত ও সম্মানিত এ দম্পতি ৩ সন্তান ও এক কন্যার জনক-জননী। তাদের প্রথম সন্তান সৈয়দ আবদুল্লা হায়দার, শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বিএসএস, নির্বাহী কর্মকর্তা (ট্রেড অ্যান্ড আই টি), রয়েল ক্যাপিটেল লিমিটেড; দ্বিতীয় সন্তান সৈয়দ মহিউদ্দিন হায়দার (শাওন), শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ এমকম,প্রকল্প কর্মকর্তা,পার্বত্য চট্টগ্রাম ঊন্নয়ন বোর্ড; তৃতীয় সন্তান কন্যা। তার নাম সৈয়দা মুর্শিদা আক্তার (শাওলী), শিক্ষাগত যোগ্যতাঃ বিএসএস, পেশা গৃহীনী এবং চতুর্থ সন্তান সৈয়দ আছিব উদ্দিন হায়দার (সৈকত), তিনি বর্তমানে ঢাকা কলেজে রাজনীতি বিজ্ঞানে এমএসএস ক্লাশে অধ্যয়নরত।

ভাই বোনেরা কর্ম ও সংসারগত কারণে বিভিন্ন স্থানে বসবাস করলেও সবাই এখনও যৌথ পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিন্ন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *