ওয়াদুদ ভূইয়া: জীবন বৃত্তান্ত

ওয়াদুদ ভূইয়া
সাবেক সংসদ সদস্য

চেয়ারম্যান,
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ’ এর
রাজনৈতিক বৃত্তান্ত

স্বাধীনতার ঘোষক, সফল রাষ্ট্র নায়ক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র হাত ধরে ১৯৮০ সালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির অঙ্গ সংগঠন ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবনে পদার্পণ করি। অত:পর শহীদ জিয়ার জীবদ্বশায় তাঁর স্পর্শে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করি। পরবর্তিতে শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিক হিসেবে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির বহু দায়িত্ব পালন করে আসছি। বাংলাদেশের একদশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনীতিতে বিএনপির পতাকা বহন করে আসছি।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে কর্মসূচী বাস্তবায়নে কাজ করেছি এবং করে চলেছি।

’৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জোড়ালো আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি এবং একাধিকবার হামলা-মামলা ও কারাবরনের স্বীকার হই। এমনকি শহীদ জিয়া শিশুপার্ক এলাকায় স্থাপীত তৎকালিন মেজর জেনারেল আব্দুর রহমান এর নেতৃত্বাধীন ক-আঞ্চলিক সামরিক আদালতে আটক এবং নির্যাতনের স্বীকার হই।

১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামীলীগ সরকার কর্তৃক সম্পাদিত অসম কালোচুক্তি তথাকথিত পার্বত্য (শান্তি) চুক্তি বিরোধী বিএনপির আন্দোলন ও বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সফল লং মার্চের সংগঠক ও সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছি। বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

ধানের শীষ প্রতিক নিয়ে চারবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে পার্বত্যাঞ্চলে বিএনপি সরকারের মাধ্যমে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করেছি। যার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালি সকল সম্প্রদায়ের মাঝে বিএনপিকে ব্যপক জনপ্রিয় করে তুলেছি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির উপযুক্ত কোন পদে আমাকে দায়িত্ব দিলে পূর্বের ন্যয় ভবিষ্যতেও শহীদ জিয়ার আর্দশ ধারণ করে, বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও জাতীয়তাবাদী মুল্যবোধের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা পালনে বদ্ব পরিকর থাকবো।

  • নাম : ওয়াদুদ ভূইয়া
  • পিতা : মরহুম হাজী সালেহ আহাম্মেদ ভূইয়া।
  • মাতা : মরহুম হাজী বিয়া সালেহ।
  • স্থায়ী ঠিকানা : বৈঠক, কালেক্টরিয়েট পশ্চিম, কলাবাগান, খাগড়াছড়ি সদর, খাগড়াছড়ি
    পার্বত্য জেলা, বাংলাদেশ।
  • বর্তমান ঠিকানা : স্যুইট নং- ৪ ও ৫, ৯ম তলা, দারুস সালাম আর্কেড, ১৪ পুরানা পল্টন,
    ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ।
  • জন্ম তারিখ : ৫ জানুয়ারি ১৯৬৫ সাল।
  • শিক্ষাগত যোগ্যতা : এস.এস.সি-১৯৮০, রামগড় সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়।
    এইচ.এস.সি-১৯৮২, রামগড় সরকারী ডিগ্রি কলেজ।
    বি.এস.এস(সম্মান) ও এম.এস.এস. চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
  • পেশা : রাজনীতি
  • পূর্ব পুরুষ : দক্ষিনশ্বরের জমিদার ও ত্রিপুরার সর্বশেষ নবাব সমশের গাজী।
  • জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু : (ক) ১৯৮০-৮১ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের
    পার্বত্যাঞ্চলের রামগড় মহকুমা, মানিকছড়ি, গুইমারা, মাটিরাঙ্গা ও সর্বশেষ এ মহানায়কের মৃত্যুর মাত্র ১৬ দিন আগে তবলছড়িতে অনুষ্ঠিত সমাবেশগুলোতে উপস্থাপনা করার সৌভাগ্য হয়। সেই সময় জিয়ার হাত ধরে রাজনীতি শুরু হয়।
    (খ) জিয়াউর রহমান কর্তৃক ছাত্রদলের নেতাদের রাজনৈতিক ওরিয়েন্টেশান ক্লাশে অংশ গ্রহন করি।
    (গ) জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের (৩০ মে ১৯৮১) দিন ঢাকার মিন্টু রোডস্থ রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার মাঠে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তৎকালিন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক যথাক্রমে গোলাম সরোয়ার মিলন ও আবুল কাশেম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ছাত্রদলের সম্মেলনে ( যে সম্মেলনটি ৩০ মে চট্টগ্রাম থেকে এসে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্বোধন করার কথা ছিলো) জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হিসেবে অংশ গ্রহণ এবং জিয়া’র শাহাদাৎ এর সংবাদে ওই অসমাপ্ত সম্মেলন থেকে ঢাকার রাজপথে ছাত্রদলের প্রথম বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেই।

সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন : ১৯৮০-১৯৯০ সাল:
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, রামগড় (রাজনৈতিক) জেলা, সাবেক মহকুমা, বাংলাদেশ।
১৯৮৭-১৯৮৮ সাল:
আহ্বায়ক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,বাংলাদেশ। ১৯৯০-১৯৯২ সাল :
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল, রামগড় (রাজনৈতিক) জেলা, সাবেক মহকুমা, বাংলাদেশ।

১৯৯৩-২০০৯ সাল :
সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা।

স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা : ’৯০ এর স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে ঢাকা, চট্টগ্রাম,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রামে জোড়ালো আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করি এবং একাধিকবার হামলা-মামলা ও কারাবরনের স্বীকার হই। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রাম মহানগরের পর আন্দোলনের চুড়ান্ত পর্যায়ে ঢাকায় অবস্থান করি। দিনের পর দিন ঢাকার রাজপথে আন্দোলন করি। সর্বশেষ সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচী পালনকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জসিম উদ্দিন হল থেকে অনেকের সাথে আমাকে সেনাবাহিনী গ্রেফতার করে। শহীদ জিয়া শিশুপার্ক এলাকায় স্থাপীত তৎকালিন মেজর জেনারেল আব্দুর রহমান এর নেতৃত্বাধীন ক-আঞ্চলিক সামরিক আদালতে আটক করে রাখে এবং নির্যাতন চালানো হয়।

পার্বত্য (শান্তি) চুক্তি বিরোধী আন্দোলন : (ক) ১৯৯৭-২০০০ সাল পর্যন্ত পার্বত্য (শান্তি) চুক্তি বিরোধী
আন্দোলনকে বাস্তবায়ন ও সফল করার লক্ষ্যে তিন পার্বত্য জেলায় ও জাতীয় ভাবে সমন্বয়ের জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন কর্তৃক সমন্বয়ক নিযুক্ত হয়ে দায়িত্ব পালন। (খ) এ আন্দোলনকে সফল আন্দোলনে রূপ দেয়া হয়। তিন পার্বত্য জেলায় ঘরে ঘরে কালো পতাকা উত্তোলনসহ দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। মাসের পর মাস হরতাল-অবরোধ পালিত হয়। তৎকালিন আওয়ামী সরকারের মন্ত্রীদের পার্বত্য এলাকায় প্রবেশ প্রতিহত করাসহ সরকারের কর্মকা- স্থবীর করে দেয়া হয়। এ আন্দোলনে আহত-নিহত এবং হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও জনগণের বিরুদ্ধে শতশত মামলা দেয়া হয়। তিন শতাধিক নেতা-কর্মী ডিটেনশান ভোগ করে। সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকায় আমি নিজেও আওয়ামী সরকারের এ জাতীয় মামলা-হামলা ও হুলিয়া ভোগ করি। (গ) বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধিন পার্বত্য (শান্তি) চুক্তি বিরোধী সফল লং মার্চের সংগঠক ও সমাপনী সমাবেশের সভাপতিত্ব করি।

বর্তমান সাংগঠনিক দায়িত্ব : (ক) ২০০৯-চলমান
সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা, বাংলাদেশ।
(খ) সভাপতি, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাবেক জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফোরাম, বাংলাদেশ।

নির্বাচনে অংশগ্রহণ :
(ক) ১৯৮৯ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলাপরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ।
(খ) ১৯৯১ হতে ২০০১ সাল পর্যন্ত ২৯৮ নং খাগড়াছড়ি পার্বত্য আসনে বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ।

জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত :(ক) ১৯৮৯ সালে খাগড়াছড়ি পার্বত্যজেলা পরিষদের সর্বাধিক ভোটে সদস্য নির্বাচিত।
(খ) ১৯৯৬ সালে ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত
(গ) ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত।

সরাকারী দায়িত্ব পালন :(ক) ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিযুক্ত।
(খ) ২০০২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নিযুক্ত।
(গ) ২০০২ সালে সরকারী প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নিযুক্ত।

কারাবরণ ও হুলিয়া : (ক) রাজনৈতিক কারণে একাধিকবার কারাবরণ এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে
১/১১ অবৈধ জরুরী সরকারের মিথ্যা মামলায় প্রায় তিন (৩) বছর কারাবরন।
(খ) পার্বত্য (শান্তি) চুক্তি বিরোধী আন্দোলনে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে লং মার্চের সংগঠক হিসেবে প্রায় চার (৪) বছর হামলা-মামলা ও হুলিয়ায় নির্যাতিত।

রাজনৈতিক মামলা : শতাধিক রাজনৈতিক মামলা (সমাপ্ত ও চলমান)।

সামজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামুলক কর্মকা- : বিভিন্ন সময় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষামুলক কর্মকাণ্ডের
সাথে সরাসরি জড়িত থেকে উন্নয়ন সাধনে ভূমিকা পালন করেছি।

উন্নয়ন কর্মকাণ্ড : সরকারী, ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন কালে বহু স্কুল, কলেজ,
মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির, পালিটোল ভবন, গ্রামীন সড়ক, ব্রীজ নির্মানসহ দরিদ্র পরিবারের আত্মকর্মসংস্থান মুলক প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষের আত্মসামাজিক ও সার্বিক উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছি।

সরকারী ও বেসরকারী ভাবে বিদেশ সফর : রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত ভাবে বিভিন্ন সময় আমেরিকা, কানাডা,
যুক্তরাজ্য, দুবাই, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, নেপাল, চীন, সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মানী, ফিনল্যান্ড, আমস্টাডাম, স্পেনসহ আরো অনেক দেশ সফর করেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *